বাংলা ছবি সেভাবে দেখাই হয় না | আবির চট্টোপাধ্যায়

রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০১৭ | ১১:৩৬ অপরাহ্ণ | 610 বার

Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page
বাংলা ছবি সেভাবে দেখাই হয় না | আবির চট্টোপাধ্যায়
আবির চট্টোপাধ্যায়

আর দু’সপ্তাহ পরেই মুক্তি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘বিসর্জন’এর। তার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় বসলেন টালিউডের নয়া ‘ব্যোমকেশ’ আবির চট্টোপাধ্যায়।

প্রশ্ন: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার নাকি দাড়ি নিয়ে কনট্র্যাক্ট হয়েছে!
আবির: পোস্টার শ্যুট হল যখন, আগের দাড়িটা কেটে ফেললাম। ‘বাস্তু-শাপ’এর সময়েও তাই হয়েছিল। পোস্টার শ্যুট হওয়ার পরই গোঁফটা কেটে ফেলতে হয়েছিল সেবার।

প্রশ্ন: ‘ছায়া ও ছবি’তেই কি আপনার রেকর্ড বড় দাড়ি?
আবির: হ্যাঁ…সবচেয়ে বড় দাড়ি বলতে ওই ছবিতেই!

প্রশ্ন: ‘বিসর্জন’এর চরিত্রটা করতে রাজি হলেন কেন?
আবির: এই ধরনের চরিত্র পেলে যে কেউ করতে রাজি হয়ে যাবে! চরিত্রটার নাম নাসির আলি। থাকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি কোনও জায়গায়। নাসির যে কাজটা করে, সেটা খুব আইনসম্মত কিছু নয়। কিন্তু ছেলেটা সহজ-সরল।

প্রশ্ন: জয়া আহ্‌সানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙাল ভাষা বললেন?
আবির: আমি সেদিক থেকে বেঁচে গিয়েছি! ছবিতে জয়া বাংলাদেশের মানুষ আর আমি এপারের, কাজেই বাঙাল ভাষা বলার গেরোয় আমাকে পড়তে হয়নি! তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিশেষ কিছু কথা, কিছু শব্দ বলতে হয়েছিল— কোনও শহুরে গন্ধ ছাড়া। নাসির যেহেতু মুসলিম, তাই ধর্মগত কিছু শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে তার সংলাপে। সে ব্যাপারে আবার জয়াই সাহায্য করেছে আমাকে!

প্রশ্ন: ‘কহানি’র বিদ্যা-আবির তো ১৪ এপ্রিলের ময়দানে একে-অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়লেন!
আবির: বিরুদ্ধে ঠিক না! হিন্দি ছবির সঙ্গে বাংলা ছবির সেভাবে কখনও কনফ্লিক্ট হয় না। আর ‘কহানি’কে তো দেখুন, বাঙালিরা বাংলা ছবি হিসেবেই কনসিডার করে! কত বাঙালি অভিনেতা ছবিটায়…। বিদ্যাও নিজেকে বাঙালি ভাবতে ভালবাসে। ‘বেগমজান’এ বিদ্যা আছে। সৃজিত আরও বেশি ঘরের লোক। ‘রাজকাহিনি’ সকলে দেখেছেন। ফলে নতুন ছবিটা কতটা আলাদা বা কতটা এক— এটাই দেখতে যাবে লোকে।

প্রশ্ন: হিন্দি ছবিতে আপনাকে দেখা যাবে না? যিশু সেনগুপ্ত তো এ ব্যাপারে এগিয়ে আছেন আপনার চেয়ে…। পরমব্রতও এক গোলে এগিয়ে আছেন!
আবির: ভাল রোল পেলে কেন করব না! আর এটা নিয়ে পরম একটা খুব ভাল কথা আপনাদের এখানেই বলেছে। যে গত সাত-আট বছরে বাংলা ছবির যে মেকওভার হয়েছে, তাতে আমাদের প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেটা ছেড়ে যাব কেন! আমি আরেকটু কাঠখোট্টা ভাষায় বলছি, আমরা যে স্টেটাসটা কলকাতায় এনজয় করি, সেটা মুম্বইয়ে গেলে সম্ভব নয়। ওখানে গেলে একেকটা রোলের জন্য অডিশন নেবেই। তখন আমার ‌ইগোতে লাগতেই পারে, যে এতদিন পরে অডিশন কেন দেব! তাছাড়া নিয়মিত ভাল কাজ পেতে হলে আমাকে মুম্বইয়ে শিফ্ট করে যেতে হবে। এখানকার কাজ বন্ধ করে! সেটাও সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: নতুন পরিচালকদের সঙ্গে তুলনায় কম কাজ করেন কেন?
আবির: এ বছরই একজন নতুন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। অনিন্দ্য ঘোষ (ঠাম্মার বয়ফ্রেন্ড)। উনি অবশ্য টেলিভিশনে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন। মৈনাক ভৌমিকের ‘বেডরুম’এ যখন কাজ করেছি, তখনও ওর সাকসেস রান’টা শুরু হয়নি। আবির সেনগুপ্তের সঙ্গে ‘যমের রাজা দিল বর’ করেছি। রঞ্জন ঘোষের প্রথম ছবি ‘হৃদমাঝারে’ আমার সঙ্গে…ফলে নতুনদের সঙ্গে কাজ করি না, এমন নয়।

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্তকে ‘বিসর্জন’এর প্রিমিয়ারে নেমন্তন্ন করবেন?
আবির: ডেফিনিটলি ডাকব! অঞ্জনদার সঙ্গে ভাব হয়ে গিয়েছে তো! তবে প্রিমিয়ারে অঞ্জনদা আসবেন না।

প্রশ্ন: ওঁর রাগ কমেছে?
আবির: সেটা অঞ্জনদাই ভাল বলতে পারবেন। কেউ যদি বলে, অঞ্জনদার এখন রাগ বেশি আছে, তাহলে জানবেন সেটা তার ধারণা! এমনকী, রাগের সময়ও যে তিনি আসলেই রেগে ছিলেন— সেটাও খুব নিঃসন্দেহে বলা যাচ্ছে না! এটাই তো অঞ্জনদার মজা!

প্রশ্ন: অঞ্জন দত্ত ছাড়া এরকম কেউ রয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে, যাঁর সঙ্গে আপনি ভাব করতে চান?
আবির: জানি না…পরপর দু’একটা সাক্ষাৎকারে দেখলাম আমার থেকে জুনিয়র কয়েকজন বলছে, যে আমরাই খালি ছবি করছি। তারা কিছু করছে না! তাদের বলতে চাই, এতে আমার কোনও হাত নেই। আমি এখনও ততটা প্রভাবশালী জায়গায় পৌঁছতে পারিনি!

প্রশ্ন: আর সৃজিতের সঙ্গে ঝগড়া…?
আবির: ওটা চলবেই। গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পিছনে লেগেছে আমার। আমি পরেরদিন আবার ওকে ফিরিয়ে দেওয়ার অস্ত্রগুলো পেয়ে গিয়েছিলাম!

প্রশ্ন: কী সেগুলো?
আবির: বিভিন্ন সময়ে ছেপে বেরনো ওর ছবি ও ইন্টারভিউ!

প্রশ্ন: প্রচারের ব্যাপারে আপনি নাকি এখন অনেক ‘নির্লজ্জ’ হয়েছেন? নিজের সহকর্মী বা ইন্ডাস্ট্রির শুভাকাঙ্ক্ষীদের পোস্টার-ট্রেলার-এটা-ওটা রিটুইট বা শেয়ার করার রাখঢাকহীন অনুরোধ করেন নাকি?
আবির: পার্সোনালি সবাইকে বলি না। কয়েকজনকে বলি। অন্য ছবির শ্যুটিং করছি হয়তো…সেখানে কো-অ্যাক্টরদের কখনও সখনও বলি। বা ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব অ্যাক্টিভ, তাদেরকে। ‘কাঠ-মুণ্ডু’র সময়ে যেমন রাইমা’কে দিয়ে টুইট করিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ রাইমার টুইটারে ফলোয়ার্স অনেক বেশি। আর টু বি ভেরি অনেস্ট, রাইমা সেন কেন বাংলা ছবি নিয়ে টুইট করছে, এটা ভেবেই লোকে আরও বেশি করে আগ্রহী হবে (সকলের হাসি)!

প্রশ্ন: সম্প্রতি কী কী বাংলা ছবি দেখেছেন?
আবির: এই রে! আমার কিন্তু সেভাবে ছবি দেখাই হয় না। ‌কী কী ছবি রিলিজ করেছে বলুন তো এর মধ্যে?

প্রশ্ন: ‘বিবাহ ডায়েরিজ’ দেখেছেন?
আবির: নাহ্‌, তখন তো আমি ‘ছায়া ও ছবি’র শ্যুটিংয়ে বাইরে…।

প্রশ্ন: ‘অসমাপ্ত’?
আবির: নাহ্‌, ওটাও দেখা হয়নি।

প্রশ্ন: মানে, ঋত্বিক চক্রবর্তীর কোনও ছবিই আপনি দেখেন না!
আবির: (ভাবতে ভাবতে) ঋত্বিকের…দেখেছি কয়েকটা। যেমন ‘অনুব্রত, ভালো আছো?’ খুব ভাল লেগেছিল ছবিটা।

প্রশ্ন: অনেকগুলো ছবি পরপর রিলিজ করছে। কোনগুলো দেখবেন?
আবির: রাজ চক্রবর্তীর ‘চ্যাম্প’ দেখবই। কারণ স্পোর্টস মুভি হিসেবে বাংলায় ওটা বেশ ইম্পর্ট্যান্ট একটা ছবি হতে চলেছে। ‘পোস্ত’ও দেখতে চাই। ছোটবেলায় আমার বেশিরভাগ সময়টা কাটত দাদুর সঙ্গে। সেই স্মৃতিগুলোকে সেলিব্রেট করার জায়গা থেকে ছবিটা দেখব। আর ‘দুর্গা সহায়’ না দেখলে অরিন্দমদা মারবে (হাসি)!

প্রশ্ন: কখনও কোনও চরিত্র ফিরিয়ে দেওয়ার পর পরদায় সেটা দেখে আফশোস হয়েছে?
আবির: না করা চরিত্রগুলো দেখে আফশোসের জায়গা অন্তত তৈরি হয়নি। ‘প্রলয়’ করার কথা ছিল আমার। কিন্তু সেই সময় আমি শ্যুটিং করতে পারিনি। সেটা নিয়ে রাজ আমাকে সারাজীবন নাকি গালাগালি করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল! শেষ পর্যন্ত পরম করেছিল ছবিটা। আমার একটু খুঁতখুঁত করেছিল, কিন্তু ছবিটা দেখার পর ওটাও কেটে গিয়েছিল।

প্রশ্ন: একটি নামী প্রযোজনা সংস্থার ‘চক্রান্তে’ নাকি আপনার ‘এসকে মুভিজ’এর ব্যানারে শ্রাবন্তীর সঙ্গে কাজ করা হল না?
আবির: না, না, না। আমি ‘এসকে মুভিজ’এর সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। তাছাড়া যে নামী প্রযোজনা সংস্থার কথা বলছেন, সেখান থেকেও বছরে একটা ছবিই বেরোয় আমার— তা-ও ফ্র্যাঞ্চাইজি বলে। এই ছবিটা করতে পারলাম না, ডেট নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল বলেই। তাছাড়া স্ক্রিপ্ট’ও আমার ততটা ফ্যাসিনেটিং মনে হয়নি।

২০১১-২০১৭ | টক্কিজবিডি ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Design by: Web Q BD | Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!